খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লালনের গান শুধু বিনোদন নয়। এটি আত্মজিজ্ঞাসার গান, আত্মপরিচয়ের গান, মানবমুক্তির গান। তার সুরে মিশে আছে বাংলার মাটির গন্ধ, তার কথায় ফুটে উঠেছে জীবনের গভীর দর্শন। তার সাধনায় প্রকাশ পেয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার শক্তি। লালনের এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে তার দর্শন পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। বাংলার বাউল সংগীত ও লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করা আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, লালন সাঁই আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তার গান আছে, তার দর্শন আছে, তার মানবতার বাণী আছে। যত দিন মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, মুক্তির পথ খুঁজবে, মানবতার চর্চা করবে, তত দিন লালন সাঁই বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্ব দরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও পরিচিত করে তোলা। কারণ, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর নয়, উন্নয়ন আমাদের সংস্কৃতিরও। শেকড়কে ভুলে নয়, শেকড়কে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতিতেও মানুষের কল্যাণ, মানুষের অধিকার এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরাও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে চাই আমাদের কাজের মাধ্যমে, আমাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আরও বলেন, আমি মানিকগঞ্জের সন্তান, এই মাটি, এই মানুষ, এই জনপদ আমার অস্তিত্বের অংশ। আমার বাবা আমৃত্যু মানিকগঞ্জের মানুষের পাশে থেকেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, মানুষের ভালোবাসাকে মূল্য দিয়েছেন। তার সেই পথচলা আমার জীবনেও প্রেরণা। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে যাব। মানুষের পাশে থাকব, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। কারণ, আমার কাছে মানিকগঞ্জ শুধু একটি জেলার নাম নয়। এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার শেকড়, আমার স্মৃতি, আমার দায়বদ্ধতা, আমার ভালোবাসা। এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা আমার কাছে অত্যন্ত আপন। মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষই আমার এক পৃথিবী। এই মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জেলা কমিটির সদস্য-সচিব শামীম বিশ্বাস।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী উম্মে সুমাইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় ‘লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সিংগাইর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জাসাসের শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক জুঁইরিরা ইসলাম নুপুর।