ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ ম্যাচে দর্শকদের দারুণ এক উপহার দিল সিলেট টাইটান্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শক্তিশালী রংপুর রাইডার্সকে একপ্রকার একচেটিয়া দাপটে হারিয়ে সিলেট পর্ব শেষ করেছে তারা। এই হারে রংপুরের জন্য বিপদ আরও বেড়েছে, কারণ এটি তাদের টানা তৃতীয় পরাজয়। টস জিতে সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ শুরুতেই প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। শুরুটা যে রংপুরের জন্য ভয়াবহ হতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় প্রথম ওভার থেকেই। মঈন আলীর করা উদ্বোধনী ওভারে কোনো রানই তুলতে পারেনি রংপুর। পরের ওভারের চতুর্থ বলেই কাইল মেয়ার্স বিদায় নিলে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা।চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস। চারটি চার মেরে দ্রুত রান তুললেও ১২ বলে ২২ রান করে থামতে হয় তাকে। এরপর খুশদিল শাহ ২৪ বলে ৩০ এবং ইফতিখার আহমেদ ২০ বলে ১৭ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। মাঝের ওভারে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। শেষ দিকে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।২৪ বলে ২৯ রান করে তিনি আউট হলে পুরো ইনিংসটাই থেমে যায় রংপুরের। ১৯.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১১৪ রান। সিলেটের বোলাররা এদিন ছিলেন দুর্দান্ত। নাসুম আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। মঈন ছিলেন আরও কৃপণ। মাত্র ৮ রান দিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। অধিনায়ক মিরাজও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ২ ওভারে দেন ১৫ রান।সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল সিলেট। দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে ম্যাচটি একপেশে করে তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৪১ বলে অপরাজিত ৫২ রান করে ছক্কায় ম্যাচ ও নিজের ফিফটি দুটোই নিশ্চিত করেন তিনি। তৌফিক খান ২২ বলে ৩৩ এবং আরিফুল ইসলাম ২৬ বলে ২১ রান করে জয়ে ভূমিকা রাখেন। আফিফ হোসেন ধ্রুব করেন ১২ রান। এই জয়ের মাধ্যমে ৯ ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের জয় সংখ্যা দাঁড়াল ৫টিতে। অন্যদিকে ৮ ম্যাচ শেষে রংপুর রাইডার্সের এটি চতুর্থ হার, তাও আবার টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ের হতাশা নিয়ে।