যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইসরায়েলে। চুক্তির কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় সীমিত পরিসরের একটি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠক করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া এক মন্ত্রীর সহকারী দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, চুক্তির দুটি ধারা নিয়ে নেতানিয়াহু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন। এর একটি লেবাননে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত এবং অন্যটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেয়ার বিষয়ে। সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। এর মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই নিরাপত্তা বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইরানকে ঘিরে কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বড় অগ্রগতির দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থামাতে সমঝোতার অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন শুধু বাকি রয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদন ও শেষ মুহূর্তের কিছু সমন্বয়। গত শনিবার ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও থাকবে। তবে এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত বিষয় ও বিস্তারিত দিকগুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।’