যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কয়েকদিন নিখোঁজ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও তাঁদের খবর মিলেনি। দুইজনই গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
অবশেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শিক্ষার্থী জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর দিন অর্থাৎ শনিবার শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ পাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমন ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। আজ (শনিবার, ২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানান, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মৃতদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।’
এর আগে অপর নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের হিলসবরোর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।
এর আগে গত শুক্রবার তল্লাশি চালিয়ে ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী ধাপে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৬ বছর বয়সী হিশাম ইউএসএফ-এর সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
এই ট্র্যাজেডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জুনিয়র শিক্ষার্থী এলি পাওয়েল তার মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ফাইনাল পরীক্ষার জন্য পড়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এই খবরটি আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। পড়ার টেবিলে মন বসানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’