ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১৫ বছর বয়সী প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড জেজে গ্যাব্রিয়েল সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে আলোচনার জন্য বার্সেলোনায় গেছেন। সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান নিবন্ধন বাতিল করে অবিলম্বে ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশের পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ভবিষ্যৎ। ইউরোপের শীর্ষ কয়েকটি ক্লাবও এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে দলে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গোল ডট কম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ছাড়েন গ্যাব্রিয়েল। ফ্রান্স হয়ে তিনি স্পেনে পৌঁছান এবং বার্সেলোনায় সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে উয়েফা যুব লিগে অভিষেকে দারুণ পারফরম্যান্সের পর গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। সাবাহর বিপক্ষে ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ৫-০ জয়ে তিনি হ্যাটট্রিক করেন। ওই ম্যাচের পরই সিনিয়র দলের আলোচনায়ও তার নাম জোরালোভাবে উঠে আসে। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে সাবাহকে ৪-০ গোলে হারানোর সময় গ্যাব্রিয়েলকে সিনিয়র দলের স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তবে ৪-০ ব্যবধানের ওই ম্যাচটি ছিল ইউনাইটেডের মূল দলের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ, আর গ্যাব্রিয়েলের হ্যাটট্রিক হয়েছিল যুব দলের ৫-০ জয়ে। বার্সেলোনা অবশ্য গ্যাব্রিয়েলের প্রতি আগ্রহী নতুন কোনো ক্লাব নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে স্প্যানিশ ক্লাবটি তাকে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সে সময় তিনি বার্সেলোনার খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামালের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের আগ্রহের কথাও সামনে এসেছে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সাধারণত ১৮ বছর বয়সের আগে বিদেশি ক্লাবে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে গ্যাব্রিয়েলের আইরিশ পাসপোর্ট রয়েছে। ফলে ৬ অক্টোবর ১৬ বছরে পা দেওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য ভিন্ন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবশ্য এখনো তার নিবন্ধন বাতিলের অনুরোধ মেনে নেয়নি। ক্লাবটি তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। গ্যাব্রিয়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিক। তরুণ খেলোয়াড়টির বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন তিনি। “সে একজন তরুণ ছেলে, জেজে। আমার মনে হয়, এখানে কোনো কিছু প্রকাশ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এত বেশি প্রচার, নজরদারি এবং সবকিছুর মধ্যে তার বিষয়টি খুব সংবেদনশীলভাবে দেখা দরকার। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যেদিকেই যাক, সেটি সেভাবেই সমাধান হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে ঠিক আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা।” গ্যাব্রিয়েল বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে বার্সেলোনায় তার যাওয়া ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের মধ্যেই সম্ভাব্য পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।