তাকে নিয়ে ঝালকাঠির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঢাকায় পৌঁছতে রাত হতে পারে বলে জানিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, মা ও মেয়েকে হত্যাকাণ্ডের পরে ওই গৃহকর্মীকে শনাক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে কিছুই পাওয়া যায়নি। না আছে জাতীয় পরিচয় পত্র, না আছে ফোন নম্বর। এছাড়া পাওয়া যায়নি তার ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব। প্রথমে তদন্ত শুরু করা হয় সিসিটিভি ফুটেজ ধরে, সড়কে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, মেইন রাস্তায় রিকশা থেকে সে নেমে যায়। তারপরে কোথায় গেছে আর বোঝা যাচ্ছিল না। পুলিশ তবু অব্যাহত রাখে তদন্ত। এক পর্যায়ে জানা যায়, ওই গৃহকর্মী আশুলিয়া সাভার এলাকায় আছে। সেখানেই যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর জানা যায়, বরিশালের অমুক জায়গায় গৃহকর্মী আয়শা অবস্থান করছে। সেখানেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তারপরে সর্বশেষ অভিযানে ঝালকাঠি নলছিটিতে নিজেদের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ নম্বর বাসার সপ্তমতলায় নিজ বাসায় গৃহিনী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় মোছা. আয়েশা নামের ওই গৃহকর্মী। বেলা পৌনে ১২টার দিকে ওই বাসা থেকে লায়লা আফরোজের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাফিসা বিনতে আজিজের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহারে আ. জ. ম. আজিজুল ইসলাম বলেন, গত ৪ দিন আগে আসামি আমার বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। সোমবার সকাল অনুমানিক ৭টার দিকে সময় আমি কর্মস্থল উত্তরায় চলে যাই। পরে আমার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। আমি নিরুপায় হয়ে বেলা অনুমানিক ১১টার দিকে বাসায় ফেরত এসে দেখি, আমার স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা, রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং আমার মেয়ের গলার নিচে ডান পাশে কাটা, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাসার মেইন গেটে পড়ে আছে। আমার মেয়ের এই অবস্থা দেখে দ্রুত আমি তাকে উদ্ধার করে পরিছন্নতাকর্মী মো. আশিক এর মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।