জানা নিউজ

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, বাজেটে বড় সংস্কারের ঘোষণা

দেশে নারী শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এবার মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর, কারিগরি শিক্ষা বিস্তার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার একগুচ্ছ উদ্যোগও তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট, যার সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে রাখা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষানির্ভর নয়, দক্ষতা ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তোলার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “আমরা এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।” তার ভাষায়, কারিগরি, প্রযুক্তিনির্ভর, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে মূলধারায় যুক্ত করাই এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।

নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে শুধু বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনাই নয়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের শিক্ষার ব্যবধান কমে আসতে পারে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার চিন্তাও রয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির বাইরে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের সুবিধাও রাখা হচ্ছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক, অবকাঠামো ও ধারাবাহিক অর্থায়ন ছাড়া এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।