জানা নিউজ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি বিমান সংস্থার কিছু ফ্লাইট বাতিল

ইরানের বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করেছে। এরপর গতকাল বুধবার ইরানের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের একটি ট্রাভেল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বাগদাদ, মাসকাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানগামী কিছু ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে। তবে চীনসহ আরো কয়েকটি দেশে ইরানের ফ্লাইট এখনো চলছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার ইরানের ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে নতিস্বীকারে বাধ্য করাই এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। বহু বছর ধরেই দেশটির বিমান খাত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে এবং অন্য দেশগুলো এগুলো মেনে চলবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও ইরানের বড় বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইট তেহরান থেকে চীনের গুয়াংঝুতে পৌঁছেছে। এদিকে চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এবং এগুলোকে অবৈধ মনে করে। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার চীনের সাংহাইয়ের উদ্দেশেও একটি ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল। তেহরানের এক ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলগামী কিছু ফ্লাইট চালু রাখার কথা থাকলেও অন্য কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওই এজেন্ট বলেন, পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় তারা আপাতত নতুন টিকিট বিক্রি করছেন না। এদিকে আফগানিস্তানের কাবুল থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইট গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোট কয়েকটি বিমান সংস্থা, যেমন ভেরেশ এয়ার, তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায় কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছিল। এছাড়া ইরাকের নাজাফ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ফ্লাইটও নির্ধারিত ছিল। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করবে। তিনি অন্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, বিমানবন্দর সেবা বা টিকিট বিক্রির মতো সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে ইরানিদের বিদেশে যাতায়াত করা এবং বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এদিকে ইরাক সরকার প্রকাশ্যে এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দেয়নি। তবে ইরাকের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে।