জানা নিউজ

মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যা, গণপিটুনিতে হত্যাকারী নিহত: আহত পুলিশ সদস্য

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার রণশিবাজার এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে জনতার গণপিটুনিতে হত্যাকারী অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৭ টার মধ্যে দুই হত্যাসর ঘটনা ঘটে। বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহতরা হলেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোঁলাবাড়ি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক (৩৩) ও একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৩১)। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আবদুর রাজ্জাক রনশিবাড়ি বাজারের নজরুলের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমিনুল ইসলাম দোকানের ভেতরে ঢুকে আবদুর রাজ্জাককে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে আহত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে দৌড় দেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আমিনুলকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তিনি রনশিবাড়ি গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটি ঘিরে রাখেন। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাধা দিলে উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ দুই পুলিশ আহত হন। এরপর লোকজন বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে এসে গণপিটুনির এক পর্যায়ে ওই আমিনুলের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাক মাছ ব্যবসায়ী। আমিনুল ইসলাম বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। চার দিন আগে এক নারীকে আমিনুল মারধর করেন। এ বিষয়ে আত্রাই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই নারী। আব্দুর রাজ্জাক ওই নারীকে থানায় নিয়ে গিয়ে সাধারণ ডায়েনি করাতে সহযোগিতা করে। এ নিয়ে রাজ্জাকের উপর ক্ষুদ্ধ হন আমিনুল। শুক্রবার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর এক বাড়িতে আশ্রায় নিয়ে নাটক শুরু করে। বিষয়টি জনতা বুঝতে পেয়ে গণপিটুনি দিলেন আমিনুল ইসলাম মৃত্যু হয়। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বাগমারা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এর কিছুক্ষণ পরই প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় মানুষ বাজারে ছুটে এসে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমিনুল ইসলামকক ধরে ফেলে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম জানান, দুজনই আগে থেকে পরিচিত এবং একই এলাকার মানুষ। অভিযুক্ত আমিনুল মাদকাসক্ত ছিল। বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তের পর এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে।