মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি ৬০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করা হয়েছে
জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রস্তাবনায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের মূল শাখার প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে সেখানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ছয়টি ক্যাম্পাসে প্রভাতি এবং দিবা শাখায় মোট ১৪টি শিফট চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি শিফট অনুমোদিত। বাকি ১০টি শিফটের অনুমোদন নেই। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক উন্নয়ন ভাতা এবং নগর ভাতা প্রদানের সুযোগ না থাকলেও অনৈতিকভাবে এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। এ দুই খাতে শিক্ষকরা লোপাট করেছেন ৮৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৪ টাকা। এসব টাকা শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট জমা দেওয়া হয়নি। ২০০৯-২০১০ অর্থবছর হতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ভ্যাট বাবদ সরকারকে ফাঁকি দেওয়া ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। স্কুলটিতে বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষকদের সম্মানি দেওয়া হতো। এ সম্মানিতেও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ক্লাস ও পরিচালনা কমিটির সম্মানি বাবদ ১ কোটি ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৯৮৭ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালায় কমিটির সভার সম্মানির বিষয়ে কিছু বলা নেই। কিন্তু এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সম্মানির নামে ২ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্মাণ বা মেরামত ও উন্নয়ন খাতে মোট ৪৩৬ কোটি ১২ লাখ ৮ হাজার ৪৪২ টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে ডিআইএ তদন্ত দল এসব অর্থ ব্যয়ের ভাউচার, ব্যয়ের প্রক্রিয়া, গভর্নিং বডির রেজল্যুশনসংক্রান্ত কোনো তথ্য পায়নি।
প্রতিবেদনে নির্মাণ বা উন্নয়ন খাতে করা বিপুল অর্থ ব্যয়ের ভাউচার প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ না করায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা অথবা রেকর্ডপত্র উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেস রয়েছে। এরপরেও এ খাতে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭১২ কোটি খরচ দেখানো হয়েছে। এসব অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুদ্রণ খাতে আত্মসাৎকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের কাছ থেকে আদায় করে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলে জমা করতে হবে। প্রশ্নপত্র ছাপা, বিজ্ঞাপন, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন খরচে বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিবেদনে ভ্যাট বাবদ ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।