আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গত রোববার এই হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সাবেক পেস তারকা শোয়েব আখতার।
এই পরাজয়ে সুপার এইটে ওঠা নিয়েও শঙ্কায় পড়েছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের দিকেও। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের অষ্টম হার। একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০২১ আসরে।
ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ১৭৫ রান। ওপেনার ইশান কিশান ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। সূর্যকুমার যাদব যোগ করেন ৩২ রান। জবাবে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। দুই ওভারে হারায় ৩ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় তারা।
হারের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোয়েব আখতার বলেন, “যে ব্যক্তি ক্রিকেট বোঝেন না, তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এভাবে দল কীভাবে এগোবে? পরিকল্পনা নেই, বিনিয়োগ নেই, দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা নেই। ফল তো এমনই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৫-২০ বছরে সিস্টেমে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা একসময় ভারতের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করতাম, এখন তাদের হারানোর কথা ভাবাও কঠিন। একজন খেলোয়াড়কে সুপারস্টার বানানো হয়েছে, যে ম্যাচ জেতাতে পারে না। অযোগ্য লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোই সবচেয়ে বড় অপরাধ।”
পেসারদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শোয়েব। তার ভাষায়, “১২৫-১৩০ কিলোমিটার গতিতে বল করে আধুনিক টি টোয়েন্টিতে ভয় দেখানো যায় না। প্রতিভা আছে, কিন্তু প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তা নেই।”
ম্যাচ ঘিরে আগে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায় ভারত-পাকিস্তান লড়াই। তবে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট পড়ার পর স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে তাকে আর দেখা যায়নি।
এই হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বোর্ড পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।