জিম্বাবুয়ের সাথে ব্যাট হাতে পেরে উঠেছে না বাংলাদেশ। টেস্টে ব্যর্থতার পর প্রথম ওয়ানডেতেও লেজেগোবরে দশা টাইগারদের। মাত্র ১৪২ রান তাড়া করতে গিয়েও ২৫ রানে হেরে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই খেলছে টাইগাররা। তবুও ব্যাটিংয়ে দুর্দশা কাটছেই না। জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে টাইগারদের ব্যাটিং ইউনিট। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। এক ভিডিওবার্তাতে ব্যাটিং কোচ আশরাফুল বলেছেন, ‘গত ৭ মাসে আমরা আমাদের হোম কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছিল। জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ আমরা ২০২২ সালে এসেছিলেন সেখানেও আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছিল। এখনও আমরা আবার দুই ইনিংস টেস্টে এবং প্রথম ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি। একটু দুর্ভাগা আমি বলব যারা আউট হয়েছেন, শটগুলো হাতে চলে গিয়েছে। বাংলাদেশে যখন খেলি দেখা যায় বাউন্ডারির সাইজটা থাকে ৬০-৬৫, এখানে বাউন্ডারির সাইজ ছিল প্রায় ৭৫, ৭৩ এর মত।’ জিম্বাবুয়ের উইকেট-কন্ডিশন বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। সেখানে মানিয়ে নেওয়াতেই খাবি খাচ্ছেন টাইগার ব্যাটাররা, মত ব্যাটিং কোচ আশরাফুলের। ব্যাটিং কোচ জানিয়েছেন, ‘এই জায়গাতে আমাদের (ব্যাটাররা) আসলে মানিয়ে নিতে হয়ত পারেনি। বাউন্স তো একটু এক্সট্রা থাকে। যদিও গত ৭ মাসে বাংলাদেশে আমরা ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করেছি এবং ভালোও খেলছিল। এখানের কন্ডিশনটা হয়ত একটু বেশি বাউন্সি।’ জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেছেন, ‘আমার জিম্বাবুয়ের সাথে অভিষেক হয়েছিল। আমি এই কন্ডিশনে খেলেছি। জিম্বাবুয়ের এখনের পেস বোলিং ইউনিট চমৎকার। তাদের যেমন উচ্চতা আছে, উইকেট থেকে সেভাবে বাড়তি বাউন্স পাচ্ছে। আমাদের ব্যাটাররা এই জায়গায় হয়তবা মিসিং। আমরা এখানে কাজ করছি। আমি নিশ্চিত পরের দুই ম্যাচে ব্যাটাররা ছন্দে ফিরবে ইনশাআল্লাহ। যে ভুলগুলো করেছে এই জিনিসগুলো তারা রিকভার করবে এটা আমার আশা। অবশ্যই এই ধরনের পারফরম্যান্স আমরা আশা করিনি। আমি নিশ্চিত পরের দুই ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটাররা আগের ৬ মাসে যেভাবে খেলেছে সেই পারফরম্যান্স তারা করবে।’ আশরাফুল আরও বলেছেন, ‘এখানের কন্ডিশন অনেক ভিন্ন। আমাদের দেশে অনেক গরম, এখানে অনেক ঠাণ্ডা। উইকেট যদি দেখেন, বাড়তি বাউন্স, পেস সবই আছে। মানিয়ে নিচ্ছে, ট্রেনিং ভালো হচ্ছে। হয়ত ম্যাচে এক্সিকিউশন ভালো হয়নি।’ ব্যাটারদের মধ্যে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং সৌম্য সরকারকে কিছুটা দুর্ভাগাও মনে করছেন আশরাফুল। সাথে জিম্বাবুয়ের পেস ইউনিটও বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। যে চ্যালেঞ্জের ঠিকঠাক জবাব দিতে পারছেন না টাইগাররা। তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা হারাচ্ছেন না ব্যাটিং কোচ। মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন, ‘কিছুটা দুর্ভাগাও ছিল অনেকে, তামিমের শট হাতে চলে গেছে। সৌম্যর শট হাতে চলে গিয়েছে। বাউন্সের কারণে তামিমের শট অন্যদিকে চলে গিয়েছে। এখানে আমার মনে হয় সবাই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে ব্যাট করা, কন্ডিশন আসলে অত সহজ না। জিম্বাবুয়ের পেস বোলাররা কোয়ালিটি পেসার, চারজন পেসারই চমৎকার। লাইন লেন্থে বল করে বাড়তি একটা বাউন্স পাচ্ছেন তাদের উচ্চতার কারণে। অবশ্যই এখান থেকে আমরা কামব্যাক করব আমি বিশ্বাস করছি।’