জানা নিউজ

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথি গোছাচ্ছে দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথিপত্র গোছাচ্ছে দুদক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই নথিগুলো দ্রুত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ জুন) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাইতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব নথিপত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে। দুর্নীতির এসব নথিপত্র চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রমাণ শতভাগ সঠিক না হলে তাকে ফেরানো কঠিন হবে।

অন্যদিকে, দেশে তার কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করলেও কিছু সম্পত্তি এখনো আয়ত্তে আনতে পারেনি সংস্থাটি।রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের ১২৬ নম্বর রোডের একটি ভবনের দুটি ফ্লোরে চারটি ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

গত বছরের ডিসেম্বরে এই ফ্ল্যাটগুলো ক্রোক করে আসবাবপত্রসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় দুদক। প্রতিটি ফ্লোরের সম্ভাব্য ভাড়া ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধরা হলেও এখনো তা ভাড়া দিতে পারেনি দুদক। একইভাবে আদাবরে ছয়টি, বাড্ডার দুটি ফ্ল্যাটেও রিসিভার নিয়োগ করতে পারেনি। তবে গোপালগঞ্জের সাভানা রিসোর্টটি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখান থেকে নিয়মিত রাজস্ব জমা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।দুদকের তথ্যমতে, ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চারটি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিং মিলিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতে থাকা তার ফ্ল্যাটও জব্দ করেছে সংস্থাটি।

আইনজীবীরা বলছেন, পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সঠিক নথিপত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে দুবাইতে জব্দ করা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতেও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।