জানা নিউজ

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো ইরানি শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই দ্বিতীয় দিনের মতো তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো ইরানি শিক্ষার্থী। স্থানীয় সময় গত রোববার তেহরানের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমিরকাবির বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে—বড় আকারের সমাবেশ হয়। সরকারবিরোধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সমর্থিত আধাসামরিক বাসিজ সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ভারী অস্ত্রসজ্জিত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদের ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ হয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাহিনীকে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আবদানান গ্রামে গত সপ্তাহের বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার হওয়া এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তি পেলে রোববার তাকে ঘিরে সমর্থকদের জমায়েত হয়। দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে সরকার বিস্তারিত গ্রেপ্তার সংখ্যা প্রকাশ করেনি। প্রাণহানির বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরান সরকার দাবি করেছে, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘দাঙ্গাবাজ’ এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে এবং আরও প্রায় ১২ হাজার ঘটনার তদন্ত চলছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুর সংখ্যা ৩২ হাজার বলে উল্লেখ করেছেন। রোববার তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় ও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমে বাসিজ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়াতে এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে, সরকারবিরোধী শিক্ষার্থীরা ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ ও ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ স্লোগান দেন। কিছু ভিডিওতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগের ইরানের ‘সিংহ ও সূর্য’ চিহ্নযুক্ত পতাকা উড়াতে দেখা যায়, যা সাবেক শাহ পরিবারের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত। বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা আয়োজন করছেন। এসব অনুষ্ঠানে শোকের পাশাপাশি হাততালি, সঙ্গীত পরিবেশন ও বিজয়ের চিহ্ন প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা প্রচলিত রাষ্ট্রীয় শোকাচারের বিপরীত। সরকার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে, তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। টানা সপ্তম সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণও অব্যাহত রয়েছে।