জানা নিউজ

বিশাল বিশাল ক্রেন নিয়ে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে চীনা জাহাজ

বিপুল বিনিয়োগের পর অবশেষে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট। দীর্ঘ দুই বছরের বিরতির পর গতকাল বুধবার চীনের পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজ পাঁচটি আধুনিক যন্ত্র নিয়ে বন্দরের প্রথম টার্মিনালে ভিড়েছে। তবে বন্দরের নাব্যতা, বিদেশি জাহাজের স্বল্পতা ও সীমিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজে এসেছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি কুয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন। প্রথম টার্মিনালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম দ্রুত ও আধুনিক করতেই এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ১৬৮ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। পায়রা বন্দরের প্রধান বড় বাধা নৌপথ রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা সংকট। মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের অভাবে চ্যানেলের গভীরতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদেশি জাহাজের আগমনও কমেছে। গত ১৩ বছরে পায়রা বন্দর উন্নয়নে প্রায় ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে আসা ২ হাজার ৯৬২টি জাহাজের মধ্যে বিদেশি জাহাজ ছিল মাত্র ২৯টি। একই সময়ে প্রায় ৫৫ লাখ টন পণ্য আমদানি হলেও এর প্রায় পুরোটাই ছিল পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা। কোনো রপ্তানি ছিল না। দেশীয় জাহাজই বহন করেছে প্রায় ৯৯ শতাংশ কার্গো। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে মোট ১ হাজার ৩৭১টি জাহাজ এলেও বিদেশি জাহাজ ছিল ৮৫টি। এর আগের অর্থবছরে বিদেশি জাহাজের সংখ্যা ছিল ১২৩টি। অন্যদিকে ২০২১ সালে শুরু হওয়া রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালে গভীরতা প্রায় ১০ দশমিক ৬ মিটারে উন্নীত হলেও পরবর্তী সময়ে পলি জমে নাব্যতা আবার কমে যায়। বর্তমানে চ্যানেলের গভীরতা প্রায় ৬ মিটারে নেমে আসার কথা উঠে এসেছে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ড্রেজিংয়ের সুফল কতটা স্থায়ী হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম জানিয়েছেন, রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি পায়রা বন্দরকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংযোজনও সেই কার্যক্রমের অংশ। তবে নিয়মিত নাব্যতা রক্ষা, বড় জাহাজের নির্বিঘ্ন প্রবেশ, পর্যাপ্ত বিদেশি জাহাজ আকর্ষণ, আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো এবং আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্য সমপ্রসারণের ক্ষেত্রেও কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।