বিদেশগামীদের আর জমিজমা বিক্রি করতে হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রবাসে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য দ্রুত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি। এতে করে বিদেশে যাওয়ার আগে অর্থসংকটে পড়ে পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে হবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থান পাবে, একই সঙ্গে দেশের বেকারত্বও কমবে।
বক্তব্যে বিদেশগামীদের বাস্তব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ বিদেশে যাওয়ার আগে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। অনেকেই ভিটেমাটি কিংবা জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হন, যা একটি পরিবারের জন্য বড় ঝুঁকি।” এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকারিভাবে দ্রুত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “এই ঋণের মাধ্যমে প্রবাসে যাওয়ার খরচ মেটানো যাবে এবং পরে বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।”
একই জনসভায় তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ চান। তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষই স্বৈরাচার বিদায় করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে। তাই দেশের পুনর্গঠনও জনগণকে নিয়েই সম্ভব। তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এবং জনগণের সমর্থন পেলে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দেওয়া হবে।
নারী ও তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ নারী ও তরুণ। তাদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য পর্যায়ক্রমে গৃহিণী ও মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জনসভায় আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পান। পাশাপাশি আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তারেক রহমান।
এ সময় ঢাকা-১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ মঞ্চে উঠে তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান শুধু ঢাকা-১৭ নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব।”