জানা নিউজ

ইশতেহারের সংক্ষিপ্ত বিবিরনী পড়ে শোনালেন তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেপালসহ প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি, দুর্ীতি প্রতিরোধ সুসাশন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত ইশতেহারে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং নারী নির্যাতন রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপসহ একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এই রূপরেখায় তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইশতেহার উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিএনপির ইশতেহারে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো-বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্পূর্ণ। নারী অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সহজ হবে। বিএনপি নারীদের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য বিএনপি সব কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
১. পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া: প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধান যথা আমাদের মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে বিএনপি সরকার দেবে প্রতি মাসে ২০০০-২৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা যথা: চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।
এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন, এখন বিএনপি তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চায়।২. স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা: নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। মেয়েদের জন্য একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রাম বা শহর, যেখানেই হোক, প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, খালেদা জিয়া এ দেশে নারী শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।
৩. নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ: নারীদের পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখা হবে। স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি মেয়ে যে স্বপ্ন দেখে, তার সেই স্বপ্নপূরণের পথে রাষ্ট্র যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সেদিকে নজর দেওয়া হবে।৪. নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো: তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর নেতৃত্ব বিকাশ নিশ্চিত করা হবে এবং রাজনীতি, প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।৫. প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বৃদ্ধিকরণ: নারীদের চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার শক্তিশালী করা, সাংস্কৃতিক বাধা দূর করা, প্রান্তিক নারীদের অন্তর্ভুক্তি করা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার পরিসর বৃদ্ধি করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।৬. লিঙ্গভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ এবং বুলিং নিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ: নারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য নিরসন করা, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বৃদ্ধি করা হবে। ডিজিটাল/অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষও বুলিং বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে এবং কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীদের ডিজিটাল হয়রানি বন্ধ করা হবে।

৭. ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন: নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

৮. ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা: ইউনিয়ন পর্যায়ে নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘নারী কল্যাণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কেন্দ্রে নারী চিকিৎসক, আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা ভুক্তভোগী নারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত সহায়তা দেবেন।

৯. নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা দেওয়া: স্বনির্ভরতা বাড়াতে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা ও কর ছাড় দেওয়া হবে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট দেওয়া হবে।

১০. আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকরণ: শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক খাতে নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করা হবে। নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা বাড়ানো ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।

১১. কর্মস্থলে ‘ডে-কেয়ার’ ও ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপন: নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গার্মেন্টসসহ সব শিল্প কারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেখানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে মা তার নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

১২. স্বাস্থ্য ও হাইজিনের জন্য ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপন: মাধ্যমিক, মাদরাসাসহ সব সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেনেটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই সেবা সব সরকারি-বেসরকারি শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিস্তৃত করা হবে।