বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল রোধ, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
জনপ্রশাসনে পেশাদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিপরায়ণ এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম কারণ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণের সামনে প্রমাণিত হয়েছে, জনপ্রশাসনের পক্ষে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব।
সরকারের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দলমত-নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য। সরকার ইতোমধ্যেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড দেওয়া শুরু করেছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদেরও সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত মানুষের কাছে এসব কার্ড সফলভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ডিসিদের পালন করতে হবে।
দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতে এবং পুনরায় কৃষি বিপ্লব ঘটাতে এক্সকেভেটরের বদলে জনগণের সম্পৃক্ততায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট জোরদার
সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ডিসিদের কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছেমতো যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করতে হবে। খাদ্যে ভেজাল, মাদক, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন
নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে টিকে থাকতে জনপ্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী হতে হবে।
দেশকে বৈষম্যমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।