দীর্ঘ বিরতির পর সুন্দরবন-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুলিবর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের ঘটনায় উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শত শত মাছধরা ট্রলার বাজার-সদাই করে প্রস্তুত থাকলেও ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ভয়ে গভীর সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির খবরে কয়েক হাজার জেলের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই মাছ ধরতে সাগরে যাচ্ছেন না। এতে জীবিকা সংকটে পড়েছেন জেলে পরিবারগুলো, হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক মৎস্য খাত। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে অনেকে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রা বাতিল করছেন।স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জলদস্যু কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তবে সম্প্রতি নজরদারি শিথিল হওয়ায় বিভিন্ন জলদস্যু চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর সাগরে ট্রলার ঘিরে ফেলা, জেলেদের মারধর, জাল ও মাছ লুট এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি তাদের।ট্রলার মালিক সামছুল হক, নুর আলম ও আবুল ফরাজীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এমনিতেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাগরে মাছের পরিমাণ কমে গেছে।তার ওপর জলদস্যুদের নতুন করে তৎপরতায় জেলেদের মধ্যে ভীতি বেড়েছে। গত কয়েকদিনে গুলিবর্ষণ ও অপহরণের ঘটনার পর অনেকেই সাগরে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।তারা বলেন, দু-তিন দিন আগে জেলেদের সাগরে পাঠাতে বাজার-সদাই করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ট্রলারগুলো ঘাটেই রাখা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুই দিনে কয়েকশ ট্রলার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও জলদস্যু আতঙ্কে তা স্থগিত করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর বঙ্গোপসাগর জলদস্যুমুক্ত থাকলেও সম্প্রতি পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আগের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো তৎপরতা না থাকলে মৎস্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।উপকূলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, উপকূল অঞ্চলের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়েও জেলেরা সাগরে যান। এর মধ্যে জলদস্যুতা, অপহরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। র্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া দস্যুতা দমন কঠিন হবে। পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সাগরে প্রশাসনিক টহল অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।