কিউবার জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী ফ্লোরিডার লাইসেন্সধারী একটি স্পিডবোটের সঙ্গে কিউবান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে কিউবার ভিলা ক্লারা প্রদেশের কায়ো ফ্যালকোনস দ্বীপের অদূরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আসা ওই স্পিডবোটটি প্রথমে গুলি চালালে কিউবান বাহিনী পাল্টা জবাব দেয়। এই ঘটনায় কিউবান নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারও আহত হয়েছেন। কিউবার দাবি, নৌযানটিতে থাকা ব্যক্তিরা সশস্ত্র অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তদন্তে জানা গেছে, নৌযানটিতে থাকা ১০ জন আরোহীর সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিক। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, মোলোটোভ ককটেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। কিউবার ভেতরে এই অনুপ্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে দুনিয়েল হার্নান্দেজ সান্তোস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি আগ্রাসীবামূলক উস্কানি বলে বর্ণনা করেছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত সৃষ্টি করা। কিউবান সরকার স্পষ্ট করেছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তারা তাদের জলসীমা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার এই ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, মার্কো রুবিও এই অভিযানকে মার্কিন সরকারের কোনো কার্যক্রম হিসেবে অস্বীকার করে বলেছেন, খোলা সমুদ্রে এ ধরনের বন্দুকযুদ্ধ অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। সমপ্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপদস্থ হওয়ার পর কিউবা এখন আঞ্চলিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে দ্বীপটির ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের কারণে কিউবা বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা