ফেরি পারাপারে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো বাস ফেরিতে তোলার আগে শতভাগ যাত্রীকে নামিয়ে দিতে হবে, যাত্রীসহ বাস ওঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ফেরি পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় কঠোর অবস্থানে যায় সরকার।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “আমরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে দায়বদ্ধ। অনেক সময় যাত্রীসহ বাস ফেরিতে দুর্ঘটনায় পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে। এটি ঠেকাতেই আগে যাত্রী নামিয়ে খালি বাস ফেরিতে তোলার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”
নিরাপত্তা আরও বাড়াতে ফেরিগুলোতে রেলিং স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষায়, “গাড়ি ওঠানামার সময় কিংবা ঢেউয়ের কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। রেলিং থাকলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতে দৌলতদিয়া ঘাটের বাসডুবির ঘটনায় শোক জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।” দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের জাহাজ ‘হামজা’সহ ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নৌপুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন সরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ফেরিঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।