বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে মতিঝিলের ব্যাংক কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বর্তমানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল বাংলানিউজকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাংক কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা জড়ো হন। সকাল ১১টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানানোর পর পরীক্ষার্থীরা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর অন্যদের সঙ্গে নিয়ে শাপলা চত্বর এলাকায় চলে যান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কোনো সমস্যা নেই। পরীক্ষার্থীরা শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় কোনো গাড়ি ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে তিন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। এ সময় সরকারি বাঙলা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে, মিরপুর ১১ নম্বরের বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর ১২ নম্বরের এমডিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় সরকারি বাঙলা কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। এখন পর্যন্ত কিছু শিক্ষার্থী সড়ক থেকে সরে গেছেন। তবে এখনও কয়েকজন শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান করছেন। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে চেষ্টা চলছে।
সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১শ’টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।