পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বর্তমানে একটি প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি:
পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে আফগান তালেবান সরকারের প্রতি তাদের “ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে” এবং এখন দুই দেশ “প্রকাশ্য যুদ্ধে” লিপ্তপাকিস্তান সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন গজব লিল-হক’শুরু করেছে
আফগানিস্তানে বিমান হামলা: শুক্রবার ভোরে পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, তালেবান সুপ্রিম লিডারের আবাসস্থল কান্দাহার এবং সীমান্ত প্রদেশ পাক্তিয়া ও পাক্তিকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে
তালেবানের পাল্টা আক্রমণ: এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের স্থল ও ড্রোন হামলা চালায় তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এটিকে পাকিস্তানের আগের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন
হতাহতের দাবি: পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের হামলায় অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে অন্যদিকে, আফগান তালেবানের দাবি অনুযায়ী, তাদের অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং বেশ কিছু সামরিক পোস্ট দখল করা হয়েছে তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি
যুদ্ধের মূল কারণসমূহ:
১. টিটিপি ফ্যাক্টর: পাকিস্তান দীর্ঘসময় ধরে অভিযোগ করে আসছে যে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে ]।
২. সীমান্ত বিরোধ: দুই দেশের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তরেখা (ডুরান্ড লাইন) নিয়ে প্রায়ই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।
৩. আগের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ২০২৩ সালের অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তা আর স্থায়ী হয়নি ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীন: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ।
সর্বশেষ অবস্থা: বর্তমানে সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও ট্যাঙ্কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে এবং দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে । যদিও তালেবান মুখপাত্র পরে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের কথা বলেছেন, মাঠ পর্যায়ের উত্তেজনা এখনো কমেনি ।