জানা নিউজ

পতন থামছেনা শেয়ারবাজারে

আবার টানা দরপতন দেখা যাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে সূচক। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হলো। এর আগে গত সপ্তাহে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর গত বুধবার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার আবার দরপতন হয়। এরপর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে শেষ আধাঘণ্টায় দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচকের পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৯টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫০টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৮টির দাম কমেছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মার্কেন্টাইল ইন্স্যুেরন্স। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এনভয় টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা, ইভিন্স টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুেরন্স। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৮টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।