শিওগাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো তার গতি। অনুশীলনে ঘণ্টায় ৩৬.২ কিলোমিটার বেগে স্প্রিন্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, ফুটবলে যা বিশেষ কিছু। নিজের এই গতিকে আরও বাড়াতে তিনি অ্যাথলেটিকসের সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার জ্যামাইকার উসাইন বোল্টের দৌড়ানোর কৌশল নিয়ে রীতিমতো পড়াশোনা করেছেন! গতি, শারীরিক শক্তি আর বল পায়ে দ্রুত ড্রিবলিংয়ের দারুণ এক প্যাকেজ তিনি। এসব গুণের কারণেই জাপানের কোচ হাজিমে মোরিইয়াসুর অন্যতম পছন্দের খেলোয়াড়ে পরিণত হন শিওগাই। চলতি বছরের মার্চেই জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পান এবং অভিষেক ম্যাচেই নিজেকে মেলে ধরেন তিনি।
এখন তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলত বদলি হিসেবেই তাকে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে যাকে তুরুপের তাস মনে করেন কোচ।
জাপানের জাতীয় দলের এক অনুশীলনের ফাঁকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়েন শিওগাই। অতীতে জাপানের বিপক্ষে বারবার জ্বলে ওঠা নেইমারকে নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেশ সাবলীলভাবেই তিনি বলেন, ‘সেটা তো ছিল পুরোনো নেইমার, তাই না? আমার মনে হয় এখন আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’
অবশ্য এরপরই ব্রাজিল দলের শক্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ব্রাজিল এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। আমরা যদি তাদের হারাতে পারি, তবে দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।’
তবে তিনি এও যোগ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে তার চোখে ফেভারিট হলো ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। কারণ ব্রাজিল এখন আর আগের মতো সেই আধিপত্যের ছাপ রাখতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি। তার এই মন্তব্যটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ব্রাজিলে। ক্ষুব্ধ হাজার হাজার ব্রাজিলিয়ান সমর্থক হামলে পড়ে এই জাপানি তারকার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে। তার সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে অগণিত মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়, যার অনেকগুলোই ছিল জাপানিদের প্রতি বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক। ফুটবলারদের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়টি ইতোমধ্যে এশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হচ্ছে।