জানা নিউজ

ঢাকায় ১৭৭১টি ঈদ জামাত, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি

রাজধানীতে এবার মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ঈদ জামাত ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। এছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠেও ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় বহুস্তরীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে। পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশ সিসিটিভির আওতায় থাকবে। মৎসভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হবে, যাতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ঈদগাহে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট গেট ব্যবহার করতে হবে এবং নারীদের জন্য থাকবে আলাদা প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া পুরো এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে। সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট এবং সাদা পোশাকে ডিবি সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাইভারশন দেওয়া হবে। মুসল্লিদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু সঙ্গে না আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা ৯৯৯ নম্বরে জানাতে হবে।