নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে টানা পঞ্চম দিনের মতো উত্তপ্ত রয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে ব্লকেড, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি ফিরে যান। পরে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “নতুন ভিসি তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে যান। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সহায়তা দেয়। তবে তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ফিরে যান।”
গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের দাবি, বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ডুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো, নবনিযুক্ত ভিসির নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
এর আগে রোববার (১৭ মে) ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনসহ অন্তত ১৪ থেকে ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনও করেন।
এদিকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের সক্রিয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদলও। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি সহ্য করা হবে না।