চীনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান আলোচক ও উপপ্রধানমন্ত্রী হে লাইফেং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের আসন্ন বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতেই তার এই সফর। গতকাল শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দুই প্রেসিডেন্ট আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসবেন। বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৃহত্তর কৌশলগত বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের চলমান উত্তেজনা কমানোই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। প্রায় এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক সমঝোতা বজায় থাকলেও, এখনো দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হে লাইফেং ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব আলোচনা দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আগে হওয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যের’ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে তিনি হে লাইফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইরান ইস্যুও উঠে আসতে পারে। চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতবিরোধের একটি কারণ। তবে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার শুল্কনীতিকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি একটি নাজুক বা ভঙ্গুর সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যে আরও বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।