জামিন পাওয়ার পর গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন এবং পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
কারা কর্তৃপক্ষ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর তার মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই মামলায় আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত ওই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে। মামলাটি মূলত জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় তাকে একাধিক আসামির মধ্যে তিন নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, “জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”
মুক্তির পর তিনি কারা ফটক থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চলে যান বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে মামলার তদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে একই মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ হয়েছিল এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাবেক এই স্পিকারের মুক্তির ঘটনায় রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।