পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী ২২ হাজার কৃষকের কাছে পৌঁছে গেল কৃষক কার্ডের সুবিধা।
টাঙ্গাইলে আয়োজিত আজ মঙ্গলবার সকালে এক বিশাল জনসভা থেকে দেশব্যাপী ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেনে তিনি।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা ও ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ প্রশস্ত হলো।
বেলা ১১টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড বিতরণের এই মহতী উদ্যোগের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে সাথে নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
কম্পিউটারের মাউসে ক্লিক করার আগে তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, “এখানে এই কম্পিউটারের একটি সুইচ টিপলে আমাদের সারা বাংলাদেশের প্রায় ২২ হাজার কৃষকের কাছে সরকারের দেওয়া এই সুবিধা পৌঁছে যাবে। আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করবো।” এরপর জনতাকে সাথে নিয়ে উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং ‘ওয়ান-টু-থ্রি’ কাউন্টডাউনের মাধ্যমে তিনি সুইচ টিপে ঐতিহাসিক এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওয়ানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। প্রধানমন্ত্রীও সহাস্যে গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।
এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকরা।