ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের হামলার জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। খবর আল-জাজিরার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার ‘শাস্তিমূলক জবাবের’ প্রথম ধাপ হিসেবে তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন আক্রমণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অপারেশন পরিচালনা করে। বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্প আরিফজান সামরিক ঘাঁটি ও আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার ও শেখ ঈসা মার্কিন ঘাঁটির ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলোকে’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় তারা নতুন করে আরো এক দফা শক্তিশালী হামলা সমাপ্ত করেছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা’ গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রাখার স্থান, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোসহ প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এর মাত্র একদিন আগেই ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছিল মার্কিন বাহিনী। অপরদিকে, কুয়েত-বাহরাইনে ৮৫টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইরানি বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বুধবারের হামলায় দেশটির বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর আটজন সদস্য নিহত হোন। আজ বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। হতাহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।