জানা নিউজ

কী আছে ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায়?

মানবজাতিকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার এক রুদ্ধশ্বাস গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে একা এক বিজ্ঞানী মহাকাশে গিয়ে পৃথিবীকে রক্ষার শেষ চেষ্টা চালান। অ্যান্ডি উইয়ারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই চলচ্চিত্র ইতোমধ্যেই বছরের অন্যতম আলোচিত ও সফল সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে রাইল্যান্ড গ্রেস নামের এক জীববিজ্ঞানীকে ঘিরে। হঠাৎ কোমা থেকে জেগে উঠে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশযানে। কীভাবে সেখানে এলেন, তার কোনো স্মৃতি নেই। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, মহাকাশযানের তিন সদস্যের মধ্যে একমাত্র জীবিত তিনিই এবং পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে এক অজানা সৌরজগতে অবস্থান করছেন। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেতা রায়ান গসলিং। গল্পে বড় মোড় আসে যখন গ্রেসের সামনে আসে মানবসভ্যতার ভয়াবহ সংকট। ভিনগ্রহের ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ নামের এক ধরনের অণুজীব সূর্যের শক্তি শুষে নিচ্ছে, যার ফলে পৃথিবী দ্রুত শীতল হয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নাসা মানবজাতিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে গ্রেসকে পাঠায় মহাকাশে। দীর্ঘ ভ্রমণের পর তিনি বুঝতে পারেন, এই মিশনের একমাত্র ভরসা তিনিই। এই সংকটময় অবস্থাতেই গ্রেসের সঙ্গে পরিচয় হয় ‘রকি’ নামের এক ভিনগ্রহি প্রাণীর। মাকড়সার মতো দেখতে এই প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ভিন্ন গ্রহের দুই সত্তার এই সহযোগিতা ও যোগাযোগই হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলে মানবজাতিকে রক্ষার লড়াই। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ফিলিপ লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার। এতে আরও অভিনয় করেছেন সান্দ্রা হুলার, জেমস অর্টিজ এবং লায়োনেল বয়েস। ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দৈর্ঘ্যরে এই সিনেমায় মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতাকে সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য অভিজ্ঞতাকে করেছে আরও বাস্তবসম্মত ও উপভোগ্য। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, “জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে এতটা সহজ ও রোমাঞ্চকরভাবে উপস্থাপন করা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম সিনেমাতেই দেখা গেছে।” অনেক দর্শক আবার এর ভিজ্যুয়াল ও ভিএফএক্সের সঙ্গে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইন্টারস্টেলার’-এর মিল খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশেও সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ তৈরি করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কী আছে এই সিনেমায়। সব মিলিয়ে ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ শুধু একটি সায়েন্স ফিকশন নয়, এটি বুদ্ধিমত্তা, বন্ধুত্ব এবং টিকে থাকার এক অনন্য গল্প। যেখানে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েও জ্ঞান আর সহযোগিতার শক্তিকে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।