জানা নিউজ

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের হামলা, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে

কাতারের প্রধান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গ্যাস স্থাপনাগুলোতে।

বুধবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। পরদিন কাতারএনার্জি জানায়, রাস লাফানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলএনজি স্থাপনাতেও নতুন করে হামলা হয়েছে, যেখানে অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

সম্প্রতি ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছিল তেহরান। সেই তালিকায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোর নামও ছিল।

এই হামলাকে কাতার তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটি ইরানের কিছু কূটনৈতিক কর্মকর্তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ আসে রাস লাফান থেকে। ফলে এই হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো বড় চাপে পড়তে পারে।

এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে, যেখানে এই সংকটই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়।