জানা নিউজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বেড়েছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে যায়। জুনের শুরুর পর এটিই ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দিনের লেনদেনমূল্য। গত মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সমপ্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর ব্রেন্টের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে ওঠে। গতকাল বুধবার এশিয়ার বাজারেও তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছুদিন চড়া থাকতে পারে। ঝেজিয়াংভিত্তিক শিনহু ফিউচার্সের বিশ্লেষক ইয়ান লিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত সমাধানের কোনো বাস্তবসম্মত পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে সংঘাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শক্ত অবস্থানে থাকবে। তেলের দামের ওপর আরেকটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে জাহাজ চলাচল নিয়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় দুটি সুপারট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দুই জাহাজে সৌদি আরবের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল ছিল। এর আগে লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের দাম মার্চ মাসে দেখা ১১৯ ডলারের বেশি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবার উঠবে না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপের কারণে সংঘাত দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট