ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আন্দোলন জোরদার ইউরোপজুড়ে। দোকানের কর্মী থেকে শুরু করে শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী ও রাজনীতিক পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই চাপ এখন রাষ্ট্রীয় নীতিতেও প্রভাব ফেলছে। গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে আয়ারল্যান্ডের এক উপকূলীয় শহরে এক সুপারমার্কেট কর্মী গাজা থেকে আসা ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখে প্রতিবাদে নামেন। তিনি ক্রেতাদের কিছু ফল ও সবজি ইসরায়েল থেকে আমদানি করার ব্যাপারে সতর্ক করতে শুরু করেন। পরে তিনি সরাসরি ইসরায়েলি পণ্য স্ক্যান ও বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনার পর সুপারমার্কেট চেইন টেসকো তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের সমর্থন ও স্থানীয় প্রতিবাদের মুখে জানুয়ারিতে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। তার এই অবস্থান স্থানীয় বিরোধকে বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ দেয়। প্রশ্ন উঠে, ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান কর্মক্ষেত্রে প্রতিরোধে রূপ নিতে পারে কিনা। আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন প্রস্তাব পাস করে বলেছে, কর্মীদের ইসরায়েলি পণ্য সামলাতে বাধ্য করা উচিত নয়। যুক্তরাজ্যের খুচরা সমবায় কো-অপ ইউকে এবং ইতালির কপ আলিয়ানজা ৩.০ গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে কিছু ইসরায়েলি পণ্য সরিয়ে নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ কৌশলের ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ড্যানিস স্টোরের কর্মীরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের পণ্য বয়কট করেন। প্রায় তিন বছর স্থায়ী ওই আন্দোলনের পর পশ্চিম ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে আয়ারল্যান্ড। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া বয়কট এবং বিডিএস আন্দোলন আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক বয়কটের আহ্বান জানায়। আন্দোলনকারীরা ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, চার্চ, পেনশন ফান্ড ও স্থানীয় সরকারগুলোর ওপরও বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রভাব
স্পেন ও স্লোভেনিয়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে স্লোভেনিয়া সরকার অধিকৃত অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। স্পেনও একই বছর ডিক্রি জারি করে অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। এরপর ২০২৬ সালের শুরুতে কার্যকর হয়। নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের পর পার্লামেন্ট সদস্যরা সরকারকে অবৈধ বসতি থেকে আমদানি বন্ধের আহ্বান জানান। আয়ারল্যান্ডে ২০১৮ সালে উত্থাপিত ‘অকুপাইড টেরিটোরিজ বিল’ আবারও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য নিষিদ্ধ করবে। তবে আইরিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সর্বসম্মত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিলটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।