জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চাপিয়ে দিয়েছে, যে মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দিয়েছে তাতে করে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকে আমরা মেনে নেবো না। জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো প্রোগ্রামে কোনোভাবেই যদি আওয়ামী লীগের কেউ যুক্ত হবার মতো সাহসও দেখায় আমরা তাদেরকে প্রতিহত করব। আমরা তাদেরকে (অনুপ্রবেশকারী) আইনের কাছে সোপর্দ করব। আমরা মনে করি যারা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে তারা কোনোভাবেই বাংলাদেশে রাজনীতি করবার নৈতিক কোনো অধিকার রাখে না। (৪ এপ্রিল) রাতে রংপুর চেম্বার ভবনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সংগঠকদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। এবং বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগেই জাতীয় নাগরিক পার্টির সূচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র সংগঠন। জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যে কার্যক্রম আছে সেগুলো পরিচালনা করবে। একটি পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম এবং সিভিল সোসাইটির প্লাটফর্ম হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা আছে সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যারা বর্তমানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন তারা অবশ্যই তাদের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যদিয়ে তাদের সংগঠনকে পরিচালনা করছেন। আমরা মনে করি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির অনেকেই যুক্ত হবার মধ্যদিয়ে তাদের (হাসনাত-সারজিসরা) যে কার্যক্রম সেটার সমাপ্তি হয়েছে। আমরা বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি নিয়ে কাজ করছি।
এসময় থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমাদের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসের বৈঠক প্রসঙ্গে এনসপির সদস্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের জনমানুষের আকাঙ্খার কথাগুলো প্রধান উপদেষ্টা ধরেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি শুধু কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। ভারতের সঙ্গে অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যে ধরণের পদ্ধতি এবং ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সেই প্রত্যেকটা বিষয়ে আশ্রয় নিতে হবে। বাংলাদেশ এবং ভারতের যে সম্পর্ক সেটা যেন কোনো দলের সাথে কোনো দেশের সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত না হয়। অবশ্যই তিস্তা-গঙ্গা-সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে, এ প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যে অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে, তাতে করে চব্বিশের অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিচার করাটা সব থেকে জরুরি বিষয়। এই বিচার শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির নয়, দল হিসেবে যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ চাপিয়ে দিয়েছে তার বিচার করতে হবে। এবং একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছে, আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের যে দাবি তার প্রতি একাত্ব হওয়া প্রয়োজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশে যে সংস্কারগুলো প্রয়োজন সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এসময় দেশে নতুন সংবিধানের বাস্তবতা রয়েছে উল্লেখ করে গণপরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকে বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে গণপরিষদের পক্ষে থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি। তবে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
এর আগে ড. মুহম্মদ ইউনুসকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনুসকে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর দেখার আকাক্সক্ষা আমার আছে এবং আজীবন থাকবে। আমি জানি না বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকারের ততোটা উদারতা থাকবে কিনা যে প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনুসের মতো যোগ্যতা সম্পন্ন একজন মানুষকে নিজের কিছুটা ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় বসানো। কারণ এই মুহুর্তে আমার মনে হয়েছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্যতা, দক্ষতা, কমিউনিকেশন, লিয়াজু সবদিক থেকে উনার মতো দক্ষ এবং যোগ্য মানুষ এই আমার চোখে আর পড়ছে না।
বিগত সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত সবশেষ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতেন বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম। আগামীতে রংপুরে জাতীয় পার্টির ঘাটি থাকবে না বলে দাবি করেন তিনি।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ফারজানা দিনাসহ বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।