রাতারাতি চুক্তি বাতিলের সুযোগ নেই
বর্ডার পেরিয়ে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি ওভার প্রাইজড (অতিরিক্ত দাম) দিয়ে জাতির পয়সা অপচয় করে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি এখন সেই চুক্তি বন্ধ করে দেই, তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আর্বিট্রেশনে (সালিশি) যাবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। এমনিতেই আমাদের বিদ্যুতের সংকট, এই মুহূর্তে আমরা ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধৈর্য সহকারে এগোতে হয়।’
সংকট সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে ল্যান্ড বেইজড (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে। চায়নার সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে মাতারবাড়ীতে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ (ভাসমান টার্মিনাল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় দেশীয় কয়লা দিয়ে ৬২০ মেগাওয়াটের নতুন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হবে। পায়রায় দ্বিতীয় ধাপে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আলোচনা চলছে। মাতারবাড়ীতে এলপিজি গ্যাসের টার্মিনাল ও স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উইন্ডমিলের (বায়ুবিদ্যুৎ) বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল, ফ্র্যাজাইল (ভঙ্গুর) ব্যাংকিং, ফ্র্যাজাইল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমরা ইনহেরিট করেছি। ছয় মাসের ভেতরে এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ওভারহলিং করে (ঢেলে সাজানো) সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা আমাদের সৃষ্ট নয়, এটি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া জঞ্জালের ফল।’