জানা নিউজ

হাজার গাড়ির লংমার্চে কি গ্যাস-বিদ্যুৎ আসবে?

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ‘আলাদীনের চেরাগের’ মতো মুহূর্তের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করলেই কি গ্যাস-বিদ্যুৎ আসবে?’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র ছয় মাস আগে। তাই দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে।

তার দাবি, গত ১৭ বছরে দেশে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি।তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকগুলো লুট না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনায়াসে গ্যাস আমদানি করতে পারতেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আন্দোলনের সমালোচনা করে ডিএসসিসি প্রশাসক প্রশ্ন রাখেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করলেই কি গ্যাস-বিদ্যুৎ চলে আসবে? বরং এতে পেট্রোলের অপচয় হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হলে অপচয় বন্ধ করে সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

একই সঙ্গে বিএনপি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে বলেই একটি গোষ্ঠী দলটির জনপ্রিয়তাকে ভয় পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি করপোরেশন নিয়মিত কাজ করছে। তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে কাউকে লংমার্চ করতে দেখা যায় না।

অনুষ্ঠানে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ প্রান্তিক মানুষের খাদ্য সহায়তায় ব্যয় করবে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

আবদুস সালাম জানান, কর্মসূচিটি পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গুলিস্তানে স্থায়ী স্টল চালুর পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে পথশিশুদের জন্য ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিনসহ ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এক লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।