বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।
এসপি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সব সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়েছে প্রশাসন।
এসপি আরও বলেন, সাজেকের পাহাড়ে যে অবরোধ, এ অবরোধের মধ্যেই সাজেকে থাকা পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি বর্ষণ করে।
তিনি বলেন, গত ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর এখানে, বিশেষ করে এ সাজেকে গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অবরোধ পালন করেছে। যেহেতু দুর্গাপূজা ছিল, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ সময়টা, বিশেষ করে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ একটু শিথিল করা হয়। এর পর ২১ অক্টোবর আবার এ অবরোধটা ঘোষণা করা হয়। এতে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে এস্কর্ট দিয়ে পর্যটকদের নিয়ে সকাল ৯টার দিকে গাড়িতে করে সাজেক থেকে রওনা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে উজোবাজারে পৌঁছালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে যেন পর্যটকরা নিরাপদে যেতে পারেন। কিন্তু অবরোধকারীরা তখন চেকপোস্টে পুলিশ এবং দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর ওপরে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন।
এরপর তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে পর্যটকদের গাড়ি যখন সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন আমরা গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পেয়েছি যে ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপ পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে পর্যটকরা যখন চলে যায়, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে থেমে থেমে গুলি বিনিময় হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলি চলতে থাকে। ১টার পর থেকে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। বর্তমানে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন, মো. জসীম উদ্দীনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।