জানা নিউজ

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মাথা ফাটানো: সেই জজকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

গোপালগঞ্জ আদালতে পেপার ওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আহত করা সেই বিচারক মো. সুজন মিয়াকে বদলি করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে বদলি করে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে আইন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।   

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ এজলাস চলাকালীন বিচারকের ছুড়ে দেওয়া পেপার ওয়েটের আঘাতে মাথা ফেটেছে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ওই আইনজীবী গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিচারকের এমন অপ্রত্যাশিত কাণ্ডের জন্য আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালতে এজলাস চলাকালীন আদালত কক্ষের বসার বেঞ্চের পেছনের দিকে আইনজীবীদের কথা বলতে দেখে বিচারক মো. সুজন মিয়া টেবিলে শব্দ করে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা বিচারকের কথা আমলে না নেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কাচের পেপার ওয়েট আইনজীবীদের লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।

এতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় লেগে তার মাথা ফেটে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারকের এমন ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত। গোপালগঞ্জ আদালতের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করছি।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই। গোপালগঞ্জ আদালতে এজলাস চলাকালীন বিচারকের ছুড়ে দেওয়া পেপার ওয়েটের আঘাতে মাথা ফেটেছে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর।