রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে জোরালো আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের আগে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, “আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।”
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে দেশে ফেরেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ শেষ হওয়ায় আগেই দেশে ফিরেছেন বলে জানান স্পিকার।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব।” রাষ্ট্রপতি কী করবেন বা করবেন না, সে বিষয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে স্পিকার স্পষ্ট ধারণা দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তাঁর পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অন্তর্বর্তী সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষায়, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব জাতীয় সংসদের।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলমান আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, “আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, সেটা আমি জানি না। এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আগাম দেশে ফেরার খবরের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা আরও জোরালো হয়। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তাঁর পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও স্পিকার পালন করেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
এদিকে কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হলেও স্পিকার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।