ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে নৌবাহিনীর জন্য ৭৫০ কোটি ডলারে ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, এর মধ্যে ২২টি এক আসনের রাফাল এম এবং চারটি দুই আসনের রাফাল ডিএইচ প্রশিক্ষণ বিমান।
বিক্রান্তে অবতরণের পরীক্ষার আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি গোয়ার আইএনএস হানসার কাছে একটি রাফাল যুদ্ধবিমানকে উড়তে দেখা যায়। সেখানে ভারতের উপকূলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে।
নেভাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ব্যবহৃত রাফাল এমটি ফ্রান্সের নৌবাহিনীর বহরের বিমান।
তবে রাফাল এমকে ভারতীয় রণতরিতে নিয়মিত পরিচালনার উপযোগী করতে কিছু কারিগরি পরিবর্তন প্রয়োজন। বিমানটির ডানা ভাঁজ করা যায় না। ফলে এর বিস্তার আইএনএস বিক্রান্তের বিমান ওঠানামার লিফটের মাপের চেয়ে বেশি। এ সমস্যা সমাধানে ডানার প্রান্তে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র বহনের রেল খুলে ফেলার ব্যবস্থা এবং রণতরির লিফটে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে ভারতের আরেক বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যতেও।
বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে মিগ-২৯কে ও মিগ-২৯কেইউবি যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর বিকল্প হিসেবে রাফাল এম এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ২০২২ সালে উপকূলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই ধরনের বিমানের সক্ষমতা যাচাইয়ের পর রাফাল এমকে বেছে নেয় ভারত।
নৌবাহিনীর জন্য রাফাল কেনার ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ৩৬টি রাফালের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশীয় অস্ত্র সংযোজন এবং ভারতে রাফালের কাঠামো তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের মাধ্যমে ২০২৮ অর্থবছর থেকে প্রতি মাসে দুটি বিমানের কাঠামো তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিমান ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলছে।
এদিকে, ভারতের নিজস্ব দুই ইঞ্জিনের ডেকভিত্তিক যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পে অগ্রগতি না থাকায় ভবিষ্যতে আরও রাফাল এম কেনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: নেভাল নিউজ