মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো। যুদ্ধবিরতির পরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলায় একদিনে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এটিকে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাসপাতালগুলো আহতদের চাপে ভরে গেছে।
এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি। দুই সপ্তাহের এই সমঝোতায় সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই চুক্তির আওতা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ইরানের দাবি ছিল, লেবাননও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে।
এ অবস্থায় হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহ। তারা এই আক্রমণকে “গুরুতর যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, “নিরীহ মানুষের ওপর এমন হামলা আমাদের প্রতিরোধ আরও জোরদার করবে।” একইসঙ্গে ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে কূটনৈতিক অচলাবস্থা। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর এমন সহিংসতা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।