যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে একের পর এক ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার পর এবার তা আর কূটনৈতিক পর্দার আড়ালে রাখছে না ভারত। বাণিজ্যনীতি, রাশিয়ার তেল কেনা, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান-সবকিছু নিয়েই প্রকাশ্যে নিজেদের উদ্বেগ জানাচ্ছে নয়াদিল্লি।
নিউইয়র্কে জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্য দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ওপর কী পড়বে, তা পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারে না। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। জয়শঙ্করের ভাষ্য, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ভালো অবস্থায় নেওয়ার ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। নিজেদের কৃষকদের সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ভারত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চায়। এ অবস্থায় কৃষি খাতের বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা ও নয়াদিল্লির অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞামূলক নীতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কমালেও রাশিয়া এখনো দেশটির প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী।
পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের ইস্যু
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয় পাকিস্তান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নয়াদিল্লির অসন্তোষ বাড়িয়েছে। কাশ্মীরসহ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে আসছে ভারত।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়াও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। জয়শঙ্কর নিউইয়র্কে বলেন, ভারতের জন্য সন্ত্রাসবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারতের। এ বিষয়ে ভারতের উদ্বেগকে অংশীদার দেশগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ে।
সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়ার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের মতপার্থক্য এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরার পেছনে ভারতের আগের অভিজ্ঞতা কাজ করছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার পর দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।