যত ঝঞ্ঝা, যত সাইক্লোন, ঝড় আসুক না কেন— মোকাবেলা করে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চেষ্টা করব, ইসি
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিল রাজনৈতিক দলগুলো
তিনি বলেন, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সীমিত ক্ষমতা। ডিজিটাল যুগে জনগণ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ৪০ লাখের বেশি প্রবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অনাস্থা ও অবিশ্বাস থাকায় পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা ও হিসাব–রক্ষণ ব্যবস্থায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধ করতে দ্রুত ফ্যাক্ট–চেকিং ও সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা গড়ে তোলতে হবে। যাতে নির্বাচনে বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা ক্রমেই কমে গেছে। জনগণ এখন প্রশ্ন তোলে— কেন ভোট দেব, ভোট দিয়ে কী হবে? নির্বাচনের প্রতি এই অনাস্থা জাতির জন্য উদ্বেগজনক, কারণ গণভোট ও মানুষের ভোটাধিকারকে সামনে রেখেই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে না পারা আমাদের সবার ব্যর্থতা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে। একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আজ সময়ের দাবি এবং এর মাধ্যমেই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—আইন লঙ্ঘন করলে কেউই পার পাবে না এবং কোনো বিষয়ে কমিশন আপস করব না। আরপিও, আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন শক্তিশালী করে কমিশন এখন কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। মাঠপর্যায়ে ভিজিলেন্স টিম, মনিটরিং টিম, আইনশৃঙ্খলা সেল, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি টিম ও কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। প্রতিটি আসনে দুই দল জুডিশিয়াল অফিসার কাজ করবে। জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক বিচার এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনে একটি পুরো আসনের ভোট স্থগিত বা বাতিল করতে পারবেন, প্রিজাইডিং অফিসারও প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ঘোষণা করতে পারবেন। দৈত নাগরিকত্ব থাকলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এ বিষয়েও কমিশন কঠোর থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবার আচরণবিধিকে প্রথমবারের মতো সরাসরি আরপিও-তে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আচরণবিধি ভঙ্গ এখন নির্বাচন, পূর্ব অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রার্থীতা বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট সব শাস্তি প্রযোজ্য হবে। তাই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মানাতে অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে—এটি এক ধরনের স্মারক ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপায়।
তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রের ৮১ শতাংশ এবং গোলাবারুদের ৭৩ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। ক্রস-বর্ডার অস্ত্র প্রবাহ ঠেকাতে বাহিনীসমূহের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নয়—এটি গোটা জাতির বিষয়, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠিন হলেও জাতি একসঙ্গে দাঁড়ালে সফলতা সম্ভব, যেমন শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপাল–শ্রীলঙ্কার মতো দেশ পারলে বাংলাদেশও পারবে। কেন্দ্র দখল প্রতিহত করা ও আচরণবিধি মানা রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, যত ঝঞ্ঝা, যত সাইক্লোন, ঝড় আসুক না কেন—আমরা এটা মোকাবেলা করে একটা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ ইনশিওর করার জন্য যত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমাদের পক্ষ থেকে নেব। এক্ষেত্রে আপনাদের (দলগুলোর) সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।