জানা নিউজ

মিছিলে যাওয়া ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ডিজিটাল ট্র্যাক করছে মুম্বাই পুলিশ

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ছাত্র বিক্ষোভে পুনরায় অংশগ্রহণ রোধ করতে মুম্বাই পুলিশ শিক্ষার্থীদের অবস্থান ডিজিটাল ট্র্যাক করছে এবং তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। বিদ্যমান ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর)-এ নাম থাকা বা পূর্বে আইনি নোটিশ পাওয়া বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় থানা থেকে সরাসরি ফোন কল এবং খুদেবার্তার মাধ্যমে অনুরোধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং যাচাইকৃত স্ক্রিনশটগুলোতে এমন ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যক্তিদের বাড়িতে থাকতে এবং নির্দেশ পালন নিশ্চিত করার জন্য ক্রমাগত তাদের হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ধারা ৩৫(৩)-এর অধীনে ভোরবেলা মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাতে বার্তা প্রাপকদের পূর্ববর্তী সমাবেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রচারণার পাশাপাশি, মুম্বাইয়ের উপশহর এবং পার্শ্ববর্তী পৌর এলাকাজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বাসভবনে সরাসরি উর্দিধারী পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোকে চলমান তদন্তের বিষয়ে অবহিত করেন এবং জনসমাবেশে আর যোগদান না করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, প্রধান মেট্রো ও রেলপথে প্রবেশের স্থানগুলোর কাছে মোতায়েন থাকা পুলিশ দলগুলো মূল সমাবেশস্থলের দিকে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অন্য পথে পাঠিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। রাস্তায় তল্লাশির সময় দ্রুত শনাক্তকরণের সুবিধার্থে পূর্বে আটককৃত ব্যক্তিদের তথ্য ও নথিও বিভিন্ন থানাজুড়ে বিতরণ করা হয়েছিল। বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো তরুণ নাগরিকদের নামে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি রেকর্ড তৈরি হওয়া থেকে বিরত রাখা, যা পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের সহায়তাকারী প্রতিরক্ষা আইনজীবী এবং আইনি সহায়তাকারী গোষ্ঠীগুলো যুক্তি দেখিয়েছে, ইলেকট্রনিক অবস্থান ট্র্যাকিং, মেসেজিং গ্রুপ চেক এবং বাড়িতে পরিদর্শন সাধারণ প্রতিরোধমূলক প্রোটোকলের সীমা অতিক্রম করে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও চলাচলের সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে। এদিকে, দিল্লিতে সিজেপি সমর্থকরা গতকাল বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে। তারা নিট-ইউজি ২০২৬ সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। গত সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে যায়। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জসহ সহিংস পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।