মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তুলনামূলক বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) বেইজিং সফরে রওনা হওয়ার আগে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে করা চুক্তির আলোকে বিষয়টি দেখলে পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশ একা করেনি। বিশ্বের অনেক দেশ একই ধরনের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “মার্কিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো। যেকোনো চুক্তি নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত। আমরা একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে।”
চুক্তির শর্ত প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “ইন্দোনেশিয়া এরকম ২৩১টি শর্তে রাজি হয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্য যারা চুক্তি করেছে তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে জিনিসটা ভালো বুঝবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তিগুলো এখন উন্মুক্ত, তাই তুলনা করে দেখা সহজ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। “আপনারা তুলনা করে দেখেন আমরা কি পেয়েছি, কি পাইনি। যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ দিয়েছে। কেউ ২০ শতাংশ পেয়েছে, আমরা পেয়েছি ১৯ শতাংশ,” বলেন তিনি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “সেখানে এখনও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা কি ভাবছেন সেটা তারা না জানালে আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব না।”
একই দিনে সকালে ঢাকায় এক বৈঠকের পর তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। সম্ভাব্য পুশইন ইস্যুতে তার অবস্থান পরিষ্কার, “পুশইনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ ব্যবস্থা নেবে।”
এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে তার চীন সফর। মঙ্গলবার (৫ মে) থেকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত এই সফরে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরে দুই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার, উন্নয়ন নীতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ, এই দুই দিক সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।