এরপর সোমবার সকালে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুর রহমানের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। পরে কালিনগর ও টুমচর এলাকায় তার অন্তত ৩০ জন অনুসারীর বাড়িঘরেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে ৩০টির বেশি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কালকিনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আলিম উদ্দিন সরদার বলেন, ‘গোয়ালঘরসহ আমার ৫টা ঘরে ওরা লুটপাট করে সব শ্যাষ করে দিছে। আমরা গরিব মানুষ, আগের চেয়ারম্যানের সমর্থক ছিলাম। কিন্তু কোনো মারামারি-গ্যাঞ্জামের মধ্যে আমরা ছিলাম না। তবুও আমাগো সব ধ্বংস করে দিল।’
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ১টি ঘর পোড়াইয়া দিছে। ২টি ঘর ভাঙচুর লুটপাট করেছে। আগে ঘরে ঢুকে যা যা পাইছে সব লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা কার কাছে বিচার দিমু। গরিবের কষ্ট দেখার কেউ নাই।’
টুমচর এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বিদেশে থাকে। আমি বাচ্চা নিয়া ঘরে থাকি। হামলাকারীগো দেখে সরে গেছি। ওরা ঘরে ঢুকে যে যা পাইছে নিয়া গেছে। যাদের সঙ্গে মারামারি, গ্যাঞ্জাম, তাদের বাড়িতে গিয়ে এমন করুক। আমরা কি দোষ করছি?’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিনগর ও টুমচর এলাকায় বাড়িঘরে লুটপাট চালানোর আগে হামলাকারীরা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে ফসলের জমিতে আশ্রয় নেন। ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলা ও ভাঙচুরের শিকার প্রতিটি বাড়ি ঘুরে দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাইজুল সরদার হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষ এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’