জানা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় ১৪টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওইসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যে কোনো সময় হামলা বা বৈরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে নাগরিকদের আগাম নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবস্থান জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় দেশগুলোকে দুটি প্রধান ঝুঁকির স্তরে ভাগ করেছে।
লেভেল-৩ সতর্কতার আওতায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরাইল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশে ভ্রমণের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই সতর্কতায় সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

অন্যদিকে, লেভেল-৪ সতর্কতার তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেন। চলমান সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।