বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে বললেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব না হলে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশে ফেরার কথা কল্পনাও করতে পারতেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি তাদের দেওয়া ৩১ তফা কর্মসূচি সংস্কারের তাদের ইশতেহারেই তারা বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধহয় তারা হারিয়ে ফেলেছে। বিএনপি ভুলে যাবেন না। এই জুলাই না হলে, এই মায়েদের, এই বাবাদের, এই ভাইদের, এই বোনদের, সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আজকে আপনারা ক্ষমতার এনজয় করতে পারতেন না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ক্ষমতায় আসার আগেই আপনারা ভুলেছিলেন, শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল। শহীদ পরিবারের কাছে তখন আপনাদের ছুটে যাওয়ার সময় ছিল না। আপনারা ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমাদের নির্বাচন দাও আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই। শহীদ পরিবারের দুঃখ আপনাদের অন্তরকে স্পর্শ করেনি। আহত বন্ধুদের নিয়ে আপনাদের কোনো কর্মসূচি, ভাবনা জাতি দেখেনি। কিন্তু এই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি আপনারা। যারা বিদেশে ছিলেন, স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে আপনারা বোধহয় কল্পনাও করতেন না দেশে ফিরে আসার।”
‘আমার জেলের সহকর্মী পার্টনার আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন একসঙ্গেই ছিলাম তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলতেন ৪১ এর আগে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব না। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পরে যখন বঙ্গভবনে শপথ নিলেন উপদেষ্টারা বিএনপির বাংলাদেশে উপস্থিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতার আমি পাশাপাশি ছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কি হলো? আমি কিছু না বলে আসমানের দিকে আমার এই আঙুলটা উঠলো। তিনি বললেন আসলেই এটা খোদার দান। এটাই মিরাকল। সেই খোদার দান ভুলে গেলেন। এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড। অমুকের নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া’-উল্লেখ করেন তিনি।
‘আমরা কারো ন্যাজ্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়করা এই তরি নিয়ে ঘাটে বেড়েছে। জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। আপামর স্বার্থ সমাজ জীবন বাঁচিয়ে রেখে তখন জাপিয়ে পড়েছিল। শ্রমিকরা পাশে দাঁড়িয়েছিল। মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। স্ত্রী তার স্বামীকে পানি এগিয়ে দিয়েছিল। সন্তান কোলে নিয়ে মা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই দিনগুলো ভুলে যাবেন না’-যোগ করেন জামায়াত আমির শফিকুর।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।